ইসকন নেতার গ্রেফতার: বাংলাদেশে ধর্মীয় উত্তেজনা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র

Neaz
0

 ইসকনের নেতা তনময় কৃষ্ণদাস কে গ্রেফতারের পর আজ যখন চট্টগ্রামের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় তখন বড় সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সমবেত হয়েছিলেন । হিন্দুদের এখানে আবেগের জায়গা আছে এবং আমি সেটাকে শ্রদ্ধা করি কিন্তু এরপর সেখানে যে ঘটনাটি ঘটলো তা একটি বড় আশংকার জন্ম দিয়েছে । একজন মুসলিম আইনজীবীকে মারাত্মকভাবে জখম করে হত্যা করা হয়েছে । প্রাথমিকভাবে অভিযোগের তীর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের দিকে যাচ্ছে এবং এটি হওয়ার সম্ভাবনাই সব থেকে বেশি কারণ যে জমায়েতটি তৈরি হয়েছিল সেখান থেকেই এই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে । একই সাথে তথ্য আসছে যে, আদালত চত্বরে মসজিদে ভাঙচুর করা হয়েছে । এই ঘটনাগুলো থেকে একটি বিষয় নিশ্চিত যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি খুব বড় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে । প্রকৃতপক্ষে হাসিনা পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে একটি হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা তৈরীর চেষ্টা যে দীর্ঘ সময় ধরেচলে আসছে তা হয়তোবা চূড়ান্ত রূপ প্রদানের চেষ্টা এইবার হতে পারে । তবে এই দাঙ্গা যদি লেগে যায় সবথেকে বেশি ক্ষতি হবে হাসিনার বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে যারা একত্রে আন্দোলন করেছিল তাদের আর এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। লাভ কেবল একটি চরমপন্থি দলের আর তার দাস আওয়ামী লীগের । সেই দাসরা আবার বাংলাদেশকে ভারতের কলোনি বানিয়ে দেশের রক্ত চুষে খেতে চায়। ফলে এমন একটি দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা কে সব থেকে বেশি করছে তা স্পষ্টভাবেই আমরা বুঝতে পারি ।


ইসকন নেতার গ্রেফতার



হিন্দু সম্প্রদায়ের যেসকল ভাইরা ওই জামাতে সংযুক্ত হয়েছিলেন তারা বেশিরভাগই যে শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে সেখানে গিয়েছিলেন এতে কোন সন্দেহ নেই, আর সে সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে কোন সাধারণ হিন্দু যে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন তা বিশ্বাস করতে আমি কোনভাবেই প্রস্তুত নই । এখানে স্পষ্টভাবেই বিভিন্ন ধরনের এজেন্টরা সংযুক্ত হয়ে এই হত্যাকাণ্ড থেকে ঘটিয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্যও খুবই স্পষ্ট । সুতরাং আমরা যারা সংখ্যাগুরু আছি এই দেশে তাদের এখন খুব সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে । তাদের এই চক্রান্তকে নস্যাৎ করে দিতে হবে । আমি এটিও নিশ্চিত যে যারা এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে তাদের মধ্যকার কিছু লোক মুসলিমদের মধ্যে অবস্থান করছে , তারা উস্কানি দেবে হিন্দুদের বাড়িতে আক্রমণ করার জন্য কিংবা তাদের বাড়িতে আগুন দেবার জন্য । আমরা যদি কুপরিকল্পনাকে হটিয়ে দিতে চাই তবে অবশ্যই আমাদেরকে সংবেদনশীল হতে হবে। আমরা ইতোপূর্বেও এক হয়ে এরকম বহু পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছি , হিন্দু ধর্মশালায় গিয়ে রাত জেগে পাহারা দিয়েছি। একজন মুসলিম হিসেবে সাধারণ অমুসলিমদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব । আর হিন্দু ভাইবোনদের প্রতি অনুরোধ; আপনারা বোঝার চেষ্টা করুন যে, আপনাদের সবথেকে বড় নিরাপত্তা আসবে এই রাষ্ট্র এবং আপনাদের সহ নাগরিকদের কাছ থেকে । হতে পারে সৃষ্টিকর্তার ব্যাপারে আমাদের মতাদর্শ ভিন্ন, কিন্তু আমারা সৃষ্টিকর্তার দেওয়া এই মাটিতেই এক সাথে বড় হয়েছি, নিজেদের সুখ দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি। একজন সাধারণ মুসলিম যার প্রতিবেশী একজন সাধারণ হিন্দু তারাই তো একে অপরের নিরাপত্তার প্রতি সব থেকে বেশি উদ্বিগ্ন হবে, স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব না থাকলে এমনটাই হয়ে এসেছে এই মাটিতে । তবে, আপনারা মনে করবেন না যে, ভারত আমাদের দেশে হস্তক্ষেপ করে আপনাদের নিরাপত্তা দিতে আসবে । নিশ্চিতভাবেই আপনাদের এই প্রত্যাশা এই সংঘাতের পরিস্থিতি আরো অনেক গুণে বাড়িয়ে দেবে ।

চট্টগ্রাম এই দাঙ্গা বাধানোর প্রচেষ্টা বেশ কয়েক মাস ধরেই চলছে। এবং আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি কোন সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এর আগের বার নিরাপত্তা বাহিনীর উপর এসিড নিক্ষেপ করেনি বরং মুখোশধারী কোন এজেন্টই এই কাজ করতে পারে । তখন পরিকল্পনা কি ছিল তা স্পষ্ট কিন্তু সৌভাগ্যবশত তা রুখে দেওয়া গিয়েছে । তবে এইবার পরিস্থিতি আরো বেশি ঘোলাটে করে দাঙ্গা সৃষ্টি করার চেষ্টা খুব জোরে সোরেই চলছে । চট্টগ্রামে তা সম্ভাব না হলেও দেশের অন্য কোন জেলায় এই চেষ্টা হবেই । নিশ্চিত থাকতে পারি আমরা । আমাদের অবশ্যই প্রচেষ্টা হবে এই চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দেওয়া । এই দেশে আমরা যারা বসবাস করি হিন্দু ,মুসলমান, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, চাকমা, মারমা কিংবা যে কোন সম্প্রদায়ের এই দেশ আমাদের, সকল মানুষ তাদের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অধিকার নিয়ে এই দেশে বসবাস করবেন এমন একটা বাংলাদেশই আমরা দেখতে চাই ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!