আমরা কখনও কখনও নিজেদেরকে প্রশ্ন করি, সৃষ্টিতে আল্লাহর উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তিনি কেন আমাদের ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছেন? আমরা এই প্রশ্নগুলি করি একটি অন্তর্নিহিত ধারণার কারণে: যুক্তিসম্পন্ন মানুষেরা তাদের কাজের জন্য লক্ষ্য খোঁজে; তাদের সচেতনচিত্তে কৃত কাজগুলি উদ্দেশ্যহীন নয়। তবে এই ধারণাটি শুধুমাত্র মানব, জীন বা অন্যান্য সসীম সত্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ আমরা দুইভাবে সীমাবদ্ধ:
১. আমাদের সীমিত সম্পদ রয়েছে, যেমন স্বাস্থ্য, ক্ষমতা এবং সম্পদ।
২. আমাদের অনেক বস্তুগত, মানসিক এবং আত্মিক চাহিদা রয়েছে যা আমরা পূরণ করতে চাই।
সম্পদের স্বল্পতার একটি অপরিহার্য ফলাফল হল যে আমাদের সব সময়ই হিসেব করে সম্পদগুলো ব্যবহার করতে হয়, কারণ আমরা যাই করিনা কেন আমাদের সম্পদের (হায়াত, অর্থ, স্বাস্থ্য) কিছু অংশ খরচ করতে হয়। তাই, একজন জ্ঞানী ব্যক্তি অন্য বিকল্পগুলির তুলনায় সর্বোচ্চ প্রাপ্তি না পেলে কোন কাজ করার সিদ্ধান্ত নেবেন না।
সীমাবদ্ধতার দ্বিতীয় দিকটি আমাদের কাজের উদ্দেশগুলোকে আরও জোরদার করে, কারণ আমাদের যদি বস্তুগত, মানসিক এবং আত্মিক চাহিদাগুলো না থাকতো, আমরা যদি পরিপূর্ণ এবং অসীম সত্তা হতাম তাহলে সম্পদ সীমিত হলেও আমাদের সম্পদের ক্ষতি বা অপব্যবহার নিয়ে চিন্তা করতে হত না। তবে এই দুই ধরনের সীমাবদ্ধতার কোনটিই আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
যেহেতু আল্লাহ একজন পরিপূর্ণ সত্তা (অর্থাৎ অসীম) তাই তাঁর কোন প্রাপ্তি বা পূর্ণতা অর্জন করার কথা কল্পনা করা যায় না কারণ তিনি পরম কল্যাণময় ও চূড়ান্ত পূর্ণতা সম্পন্ন; তিনি কোন ভাল বা পূর্ণতার অভাব বোধ করেন না যে তা সৃষ্টির মতো কোন কাজের মাধ্যমে খুঁজবেন। তাই, তাঁর কাজগুলি তাঁর পূর্ণতার কারণ নয়; বরং, সেগুলি তাঁর পূর্ণতার ফলাফল।
অন্যান্য সত্তারা পূর্ণতা অর্জনের জন্য বেঁচে থাকে এবং যতক্ষণ না তারা পরম পূর্ণতা অর্জন করে ততক্ষণ এই পথ অনুসরণ করতে থাকে। কিন্তু আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে কোন লক্ষ্য অর্জন করতে চান না; বরং, তিনি নিজেই সকল সত্তার চূড়ান্ত লক্ষ্য।
একইভাবে, আল্লাহর পূর্ণতাই তাঁর কাজের কারণ: তাঁর গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যগুলি নির্দিষ্ট ঘটনাগুলির ঘটার কারণ। তবে, এটি এই সত্যের সাথে বিরোধী নয় যে তাঁর কাজগুলির কিছু উদ্দেশ্য আছে। আল্লাহ নিজে উদ্দেশ্যহীন কারণ তিনিই উদ্দেশ্য; তবে, তাঁর প্রজ্ঞার ভিত্তিতে, তাঁর কাজগুলি একটি উদ্দেশ্য অনুসরণ করে। সুতরাং, যদি আমরা উদ্দেশ্যকে এমন কোন পূর্ণতা অর্জন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করি যা আগে ছিল না, তাহলে 'সৃষ্টির উদ্দেশ্য' আল্লাহর কোন পূর্ণতাকে বোঝাবে না; বরং, এটি বোঝায় সেই পূর্ণতাকে যা আল্লাহর সৃষ্টিসমুহ তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে অর্জন করতে পারে।